ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ প্রাণহানি, হিমঘরের সামনে স্বজনদের আহাজারি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
কুমিল্লায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ছবি- সংগৃহীত

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ শিশু রয়েছে। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, কোথাও বাবা-মা হারিয়ে এতিম হয়েছে সন্তান, আবার কোথাও একসঙ্গে প্রাণ গেছে মা ও দুই শিশুর।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়। নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে, যেখানে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঝিনাইদহের পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪)। এছাড়া নোয়াখালীর বাবুল চৌধুরী, নজরুল ইসলাম রায়হান, চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুরের শিশু সাঈদা, ঝিনাইদহের জোয়াদ/জুহাদ বিশ্বাস, মাগুরার ফসিয়ার রহমান, চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা, যশোরের সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগমসহ অন্যরা রয়েছেন।

হাসপাতালের হিমঘরের সামনে চলছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কাগজপত্র হাতে স্বজনরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে নেওয়ার জন্য। কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, কেউ আবার নির্বাক দাঁড়িয়ে আছেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি এবং জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আসন্ন ঈদকে ঘিরে যখন আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। হিমঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের আর্তনাদ যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে অসংখ্য জীবনের গল্প।