কুমিল্লার লাকসামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভ্যানগাড়ি চালক আবদুল মান্নান (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টায় লাকসাম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুন্তি উত্তর পাড়ায়।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ব্যক্তি ওই গ্রামের মৃত ছফর আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মান্নানকে তাঁর বড় ভাই শামছুল হক (শামু মিয়া), তাঁর বড় মেয়ে বকুল বেগম ও বকুলের স্বামী পৌরসভা তাঁতীদলের সভাপতি শোকর আলী রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে তিনজন মিলে মান্নানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে লাকসাম সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। থানা পুলিশ নিহত মান্নানের মরদেহ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেলে প্রেরণ করে।
নিহত মান্নানের ছেলে বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবাকে জায়গা দখলের মিথ্যা অভিযোগে আমার জেঠা শামছুল হক, তাঁর মেয়ে বকুল এবং মেয়ের জামাই শোকর আলী মিলে ঘরে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। পাশের ঘরের লোকজন রাতে আমাদের খবর দিলে আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে নেওয়ার আগেই বাবা মারা যান।
লাকসাম থানা পুলিশ বলেছে, ময়নাতদন্তের পর মামলার বিষয়ে দেখা হবে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজির জামাই শোকর আলী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মামলা সাজানোর জন্য একটি মিথ্যা কাহিনি দাঁড় করানো হচ্ছে। এখানে বহু মানুষ ছিল, তাঁকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। শুধু ভাইয়ে ভাইয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বড় ছেলে জসিম উপস্থিত থেকে বিষয়টি সমাধান করেছেন। আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ বানোয়াট।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি মাকছুদ আহমেদ বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-20260327124416.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন