× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

 ‘ধর্ষণ’ গুজবের আড়ালে ছিনতাই, মামলার পর গ্রেপ্তার ৪

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

গ্রেপ্তার আসামিরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গ্রেপ্তার আসামিরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকার ধামরাইয়ে গভীর রাতে সংঘটিত একটি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ‘ধর্ষণ’-সংক্রান্ত যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, তা পুলিশের তদন্তে ভিত্তিহীন বলে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবণ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন জিয়োস চন্দ্র মনি দাস (৩০), চরণ (৫০), সুভন (৩০) ও দিপু চন্দ্র মনি দাস (৪৫)। তারা সবাই বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবণ এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, চরণের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় আগে একটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি রাতে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি তার বান্ধবীকে নিয়ে একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই রাত দেড়টার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের রুমের দরজায় কড়া নাড়ে। সরল বিশ্বাসে দরজা খুলে দেন রাজ্জাক। এরপর তারা ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাকে মারধর শুরু করে।

একপর্যায়ে রাজ্জাকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তার বান্ধবীকে ঘরের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে তার কাছের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পুরো ঘটনা আনুমানিক ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটে এবং পরে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। বিষয়টি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণধর্ষণের ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর রাজ্জাক চিকিৎসা নেন এবং বিষয়টি সহকর্মী ও স্থানীয়দের জানান। প্রায় ১০ দিন পর ২২ জানুয়ারি তিনি ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় থানায় একটি ছিনতাই মামলা রেকর্ড করা হয়।

পরে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় চারজনের কাছ থেকে মোট ৮ হাজার ৬৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছিনতাইকারীরা সেদিন ঘরের আলো নিভিয়ে ভয় দেখাতে থাকে এবং মারধরের মাধ্যমে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। ভয়ের কারণে তিনি তার বান্ধবীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ওই রাতে ধর্ষণ বা কাউকে বেঁধে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযুক্তদের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কেও তিনি কিছু জানতেন না।

ছিনতাইয়ের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ধামরাইয়ে এক মুসলিম গৃহবধূ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই দাবিকে ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তবে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ঘটনাস্থল বা আশপাশের কেউ ধর্ষণের কোনো তথ্য জানেন না। এ ছাড়া যাকে ‘স্বামী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল, তিনিও এমন কোনো অভিযোগ করেননি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই নারীও ধর্ষণের কোনো অভিযোগ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা কেবল ছিনতাইয়ের কথা শুনেছেন; ধর্ষণের কোনো ঘটনা তাদের জানা নেই।

ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, এটি একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!