ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেনীতে ১২ দোকানে আগুন, ক্ষতি প্রায় দুই কোটি

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ফেনীর দাগনভূঞায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি দোকান পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত দুই কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোরে দাগনভূঞা উপজেলার পৌর শহরের কামার গলি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেনী জেলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে আরও দুটি ইউনিটসহ মোট পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বাজারের ১২টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দুই কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে বলে জানা গেছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পাটোয়ারী এন্টারপ্রাইজের মালিক মোক্তার হোসেন রাজু জানান, আগ্রাসী আগুনে তার দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি কোনো মালামালই রক্ষা করতে পারেননি। তার দোকানে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন। সরকারের সহযোগিতা পেলে তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত হন। বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দাগনভূঞা ক্যাম্প, দাগনভূঞা থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।