ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় চর দরবেশ, বগাদানা, চর মজলিশপুর ইউনিয়নের একটি অংশের কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফাটল দেখা দেখা দিয়েছে আরও অনেক জায়গায়।
এবার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে চর দরবেশ ইউনিয়নের কাজীর হাট স্লুইস গেট সংলগ্ন একাধিক স্থানে। যেখানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র ও কাজির হাট পুরাতন মসজিদ। তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা ও স্থানীয় মুসল্লিরা।
শুক্রবার ও শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কাজীর হাট যে স্লুইস গেটটি দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে ঠিক তার বিপরীতে একাধিক স্থানে ব্যাপক ভাঙছে দেখা যায়। যা খুবই অস্বাভাবিক।
স্থানীয়রা জানান, মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ না হলে কিছুতেই নদী ভাঙন রোধ সম্ভব না। বর্তমানে পুরাতন যে স্লুইস গেটটির ভাঙা অংশগুলো পড়ে আছে জোয়ারের সময় পানি দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গতিপথ পরিবর্তন হয়। এদিকে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। যদি এগুলো অপসারণ করা হয় এবং নদী খনন করা হয় তাহলে হয়তো ভাঙন কিছুটা রোধ হবে।
আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা বিবি রহিমা বলেন, ‘সরকারের দেওয়া জায়গায় সিমেন্টের বস্তা দিয়ে কোনো রকম মাথাগুঁজে বসবাস করছি। এভাবে যদি ভাঙতে থাকে তাহলে কয়েকদিনের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ভেঙে যাবে। এরপর আমরা কই যামু, কই থাকমু। আমাদেরকে বাঁচান।’
সাবেক ইউপি সদস্য সলিম উল্যাহ দুলাল বলেন, কাজির হাট স্লুইস ভেঙে যাওয়ার পর মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ হয়। মুছাপুর রেগুলেটরের স্থায়িত্ব বেশিদিন হয়নি। মুছাপুর রেগুলেটর ভাঙার পর এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষ ভিখারি ও মজুর। এটা যদি ভেঙে যায়, তাহলে এরা কই যাবে? কি খাবে? আমরা আমাদের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বাঁচার সুযোগ করে দেন।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও আমাদের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে অবগত করেছি। আগামী ১০ তারিখ বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে। পুনর্নির্মাণ হওয়া পর্যন্ত কাজির হাট স্লুইসের যে পুরাতন দেয়ালগুলো বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে আছে সেগুলোর পানি স্বাভাবিক গতিপথকে ব্যাহত করছে। এগুলো অপসারণ করা গেলে কিছুটা ভাঙন রোধ হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু মুসা বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি ও সরেজমিনে গিয়েছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করি, কর্তৃপক্ষ এর একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, আমি সরেজমিনে আমাদের উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ইউছুপ মিয়া, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ গিয়েছি। মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ার পর এ এলাকার মানুষ খুব ভোগান্তিতে আছে। যতদিন মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ হবে না ততদিন ভাঙতে থাকবে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। তারাও চেষ্টা করে যাচ্ছে। দ্রুত মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাবরই ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে আসছি।



