গাজীপুরে চাঁদা না দেওয়ার জেরে এক নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এই ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওয়াসিম ও তার স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওয়াসিমের ওপর হামলা চালায় একদল তরুণ। তাদের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ ও লাঠিসোটা। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওয়াসিম। পরে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়।
পরিবারের দাবি, চাঁদা না দেওয়াই এই হামলার মূল কারণ। তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ছাত্রনেতার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। যদিও ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন, তবে আড়ালে তিনি মামলা গ্রহণে বাধা দেন বলেও অভিযোগ পরিবারের।
ওয়াসিম অভিযোগ করেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকার সময় তার পরিবার বারবার থানায় যোগাযোগ করলেও কোনো সহায়তা পায়নি। পরে ৮ এপ্রিল আদালতে মামলা করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা চালিয়ে যেতে তার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না করায় তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয় বলে তিনি মনে করেন।
ওয়াসিমের স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অক্ষম হয়ে পড়ায় তারা চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে রয়েছেন। তার অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে, যার কারণে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে ভয় পান।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। প্রভাবশালী মহলের কারণে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানায়।


