গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পৃথক অভিযান চালিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও র্যাব-১। রোববার (২৮ জুন) রাতে পরিচালিত এসব অভিযানে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হাজী মাজার বস্তিতে মাদক কারবারিদের তৈরি করা একটি গোপন সুরঙ্গেরও সন্ধান পেয়েছে র্যাব।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তি ও গোপালপুর এলাকায় মাদক টাকার বিনিয়োগে নির্মিত ছয়তলা একটি ভবনে অভিযান চালায় গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মাদক সম্রাজী হিসেবে পরিচিত আরফিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের মাঠ এলাকার একটি বসতঘর থেকে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে গোপালপুর এলাকায় বহুতল ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১১ পুরিয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৪৬টি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, চোলাই মদ এবং ৪২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর উৎস ও ব্যবহার এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে একই রাতে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় র্যাব-১। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে কোনো মাদক কারবারিকে আটক করা সম্ভব না হলেও বস্তির ভেতরে তাদের তৈরি করা একটি গোপন সুরঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায়।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের খবর আগেই মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে তারা গোপন সুরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তি এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম বলেন, হাজী মাজার বস্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযানে তাদের ব্যবহৃত একটি গোপন সুরঙ্গ শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হওয়ায় মাদক কারবারিরা ওই সুরঙ্গ ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

