ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র সংঘর্ষ, যুবক নিহত

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
প্রতীকী ছবি । সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে খাদিম মিয়া (৩২) এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টা দিকে কালীকচ্ছ বাজারে এই সংঘর্ষ চলে। নিহত খাদিম মিয়া সরাইলের ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসুল হক মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন একই উপজেলার ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার চটা-পাটি বিক্রি করেছিলেন। তবে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে পাওনা টাকা চাইতে থাকলেও তিনি টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না। রোববার বিকেলে কালীকচ্ছ শহীদ মিনার এলাকায় মোশারফ হোসেনের সঙ্গে আশিক ও আলালের দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা দাবি করেন। 

এ সময় তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার খবর দুই পক্ষের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টেঁটাযুদ্ধ। সংঘর্ষ চলাকালে আশিক-আলালের পক্ষের খাদিম মিয়া টেঁটাবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ এবং জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।