বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের কল্যাণ, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় প্রবাসীরা বলেন, তারা প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু বাজেটে সেই অবদানের যথাযথ প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তাদের প্রত্যাশা ছিল, এবারের বাজেটে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও আকর্ষণীয় প্রণোদনা বৃদ্ধি, প্রবাসী কর্মীদের জন্য উন্নত কল্যাণ তহবিল, বীমা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবাসীদের বিনিয়োগে কর-সুবিধা ও সহজ বিনিয়োগ নীতি, আধুনিক ও স্বল্প ব্যয়ী ব্যাংকিং সেবা, বিদেশে নির্যাতন ও আইনি জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের জন্য কার্যকর আইনি সহায়তা, দূতাবাসে স্বচ্ছতা ও দ্রুত সেবা, প্রবাসী পরিবারের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধা এবং দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচির মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না থাকায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, প্রবাসীরা নিজেদের পরিবার-পরিজন ও মাতৃভূমি ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন। তাদের অবদান কেবল প্রশংসার ভাষণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব নীতি ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
প্রবাসীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত প্রবাসী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসে তাদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজন বিবেচনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতের জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অন্যতম কৌশলগত অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, যে দেশ প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে, সেই দেশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে প্রবাসীরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আশা প্রকাশ করেন, সরকার তাদের যৌক্তিক প্রত্যাশা ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

