ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই প্রবাসীর মৃত্যু

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০২:১০ এএম
বজলুর রশিদ ও মনোহর আলী। ছবি : সংগৃহীত

প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বজলুর রশিদ (৩৭) ও মনোহর আলী (৩৫)। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধা।

সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহত বজলুর রশিদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছোট ছেলে। তিনি দেড় বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রেখে গেছেন।

অন্যদিকে, মনোহর আলী উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের বড় ছেলে। তিনি প্রায় চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে পাড়ি জমান। তারও স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইরাকের কুর্দিস্তানে বজলুর ও মনোহর একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরছিলেন। পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

দুই যুবকের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

জানা গেছে, মনোহর আলী চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইরাকে গিয়েছিলেন। এখনও সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী সোমা আক্তার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “আমার স্বামী অনেক ঋণ করে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানেও সে খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না। এর মধ্যেই এই দুঃসংবাদ এলো। এখন সন্তানদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমার সন্তানরা যেন শেষবারের মতো তাদের বাবার মুখ দেখতে পারে। দ্রুত যেন আমার স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”

একইভাবে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহত বজলুর রশিদের বড় ভাই জুয়েলসহ পরিবারের সদস্যরা।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা মাদারগঞ্জের দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পরিবারকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে, যেন মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য দূতাবাসকে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া যায়।