ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

একাধিক বিয়ের জন্য যেসব শর্ত দিয়েছে ইসলাম

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিশেষ পরিস্থিতিতে পুরুষকে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতি ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কঠোর দায়িত্ব, ন্যায়বিচার ও তাকওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে (নারী) এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে, তবে নারীদের মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দমতো দুই, তিন কিংবা চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি আশঙ্কা করো যে তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকেই (বিয়ে করো)...।’ (সুরা আন-নিসা: ৩)

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম (মিরপুর-১২)-এর সিনিয়র মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনীর ভাষ্য, এই আয়াত একাধিক বিয়ের বৈধতা প্রমাণ করলেও একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে ‘আদল’ বা ন্যায়বিচারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।

তিনি বলেন, একাধিক বিয়ে ইসলামে কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদত নয়। এটি প্রয়োজন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে অনুমোদিত একটি ব্যবস্থা। ব্যক্তিভেদে এটি মুস্তাহাব, মুবাহ, মাকরুহ কিংবা হারামও হতে পারে।

একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামের প্রধান শর্ত

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা : একাধিক বিয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কোরআন একাধিক বিয়ের অনুমতির পাশাপাশি এ শর্তও আরোপ করেছে।

ভরণপোষণে সমতা : প্রত্যেক স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সমতা বজায় রাখতে হবে।

সময় বণ্টনে ইনসাফ : স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থান ও সময় কাটানোর ক্ষেত্রে বৈষম্য করা যাবে না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার স্ত্রীদের মধ্যে পালাক্রমে সময় বণ্টন করতেন।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন করে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে ইনসাফ, যতটুকু আমার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। আর যা আপনার নিয়ন্ত্রণে এবং আমার সাধ্যের বাইরে, সে জন্য আমাকে অভিযুক্ত করবেন না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২১৩৪)

আচরণে ভারসাম্য : একজন স্ত্রীর সামনে অন্যজনকে অপমান, অবহেলা বা মানসিক কষ্ট দেওয়া জুলুমের শামিল। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার দুই স্ত্রী রয়েছে এবং সে একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে, কিয়ামতের দিন সে এক পাশ ঝুঁকে থাকা অবস্থায় উপস্থিত হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২১৩৩)

মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী বলেন, মানুষের অন্তরের ভালোবাসা পুরোপুরি সমান রাখা সম্ভব নয়। তবে ভরণপোষণ, সময় বণ্টন এবং ব্যবহার—যেসব বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলোতে ইনসাফ বজায় রাখা ইসলামের নির্দেশ।

ইসলামে একাধিক বিয়ের বিধান মূলত সামাজিক ও পারিবারিক ভারসাম্য রক্ষার একটি ব্যবস্থা। এটি কোনো যথেচ্ছাচারের সুযোগ নয়; বরং বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অনুসরণযোগ্য একটি বিধান। আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে একজন স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম।