ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ব্রয়লার মুরগি কি মাকরুহ? ইসলাম কী বলে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—ব্রয়লার মুরগি কি মাকরুহ? অনেকেই মনে করেন, খামারের মুরগিকে অপবিত্র খাদ্য খাওয়ানো হয়, তাই এর গোশত খাওয়া ইসলামসম্মত নয়। তবে কোরআন, সুন্নাহ ও ইসলামি ফিকহের আলোকে বিষয়টি ভিন্ন।

ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো, কোনো খাবারকে হারাম বা মাকরুহ বলতে হলে তার পক্ষে সুস্পষ্ট শরয়ি দলিল থাকতে হবে। শুধু ফার্মে বা খামারে পালন করা হয়েছে—এ কারণেই কোনো মুরগিকে মাকরুহ বলা যাবে না। যদি মুরগিটি শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা হয় এবং ‘জাল্লালাহ’ (অপবিত্র খাদ্যে অভ্যস্ত প্রাণী) হিসেবে গণ্য না হয়, তাহলে তার গোশত খাওয়া বৈধ।

ইসলামি ফিকহে ‘জাল্লালাহ’ বলতে এমন পশু বা পাখিকে বোঝানো হয়, যার প্রধান খাদ্য অপবিত্র বস্তু, যেমন মল-মূত্র, এবং যার গোশত, দুধ বা শরীরে সেই অপবিত্রতার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) জাল্লালাহ প্রাণীর গোশত খাওয়া ও দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন। (জামে তিরমিজি: ১৮২৪)। অন্য একটি হাদিসে জাল্লালাহ প্রাণীতে আরোহণ করতেও নিষেধ করা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৮৫)

ফিকহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ বিধান সব প্রাণীর জন্য নয়। বরং যে প্রাণীর প্রধান খাদ্যই অপবিত্র বস্তু এবং যার ওপর এর সুস্পষ্ট প্রভাব পড়ে, তার ক্ষেত্রেই এ নির্দেশনা প্রযোজ্য।

সমসাময়িক ইসলামি গবেষকদের মতে, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্রয়লার ফার্মের মুরগিকে জাল্লালাহ বলা যায় না। কারণ অধিকাংশ পোলট্রি ফিড ভুট্টা, সয়াবিন মিল, গম, ধানের কুঁড়া, খৈল, ভিটামিন ও মিনারেল দিয়ে তৈরি হয়, যা মূলত নাপাক খাদ্য নয়। কোনো প্রাণী সামান্য অপবিত্র কিছু খেলেই জাল্লালাহ হয়ে যায় না; বরং অপবিত্র বস্তু যদি তার প্রধান খাদ্যে পরিণত হয় এবং এর প্রভাব গোশত বা গন্ধে স্পষ্ট হয়, তখনই এ বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

হানাফি মাজহাবের ফকিহদের মতে, যদি কোনো মুরগি জাল্লালাহ হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে কয়েক দিন—সাধারণত তিন দিন—পবিত্র খাদ্য খাওয়ানোর পর জবাই করলে সেই অপছন্দনীয়তা দূর হয়ে যায়। (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/৩৯)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে, তা থেকে আহার করো। (সুরা আল-বাকারা: ১৬৮)

ইসলামি শিক্ষায় তাই শুধু হালাল নয়, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় ইসলামি শরিয়তের আলোকে শুধু ব্রয়লার বা ফার্মে পালন করা হয়েছে—এ কারণেই কোনো মুরগিকে মাকরুহ বলা যাবে না। শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা এবং অপবিত্র খাদ্যে অভ্যস্ত না হলে ব্রয়লার মুরগির গোশত খাওয়া বৈধ। তবে কোনো প্রাণী যদি সত্যিই ‘জাল্লালাহ’-এর পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সেক্ষেত্রে ইসলামি ফিকহে বর্ণিত বিধান প্রযোজ্য হবে।