ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি, বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই নদীভাঙনে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। এবারও ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর পর্যন্ত বিস্তৃত বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে।

ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ইয়ার কবিরাজ জানান, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর আগে তার পূর্বপুরুষরা চাকলার চর থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছিলেন। নদীর কয়েক দফা ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে বর্তমানে সামান্য একটি জমিতে বসবাস করছেন। এখন সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় প্রতিটি রাত কাটছে তাদের।

একই গ্রামের বাসিন্দা আফতাবুল সরদার (৭০) বলেন, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বিক্রি করে হারালে কষ্ট কম হতো, কিন্তু নদী সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

শুধু আফতাবুল সরদার নন, ভিটেমাটি হারিয়ে ইতোমধ্যে বহু সচ্ছল পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কারণে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। যদিও গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ ফেলেছে, তবে প্রবল স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সেসব ব্যবস্থা টেকসই হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একাধিকবার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, বসতবাড়ি ও আবাদি জমি রক্ষায় দ্রুত একটি স্থায়ী ও মজবুত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তারা জানান, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বারবার এলাকা পরিদর্শন করে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, আমি ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

নদীভাঙনের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।