ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে কততম বাংলাদেশ, শীর্ষে কারা?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ব্রয়লার মুরগি। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বে ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে এখনো শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) বৈশ্বিক উৎপাদন ডাটাবেজ (FAOSTAT)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ৫৩তম অবস্থানে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে তাজা ও প্রক্রিয়াজাত মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদন হয়েছে। দেশে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও বৈশ্বিক উৎপাদনের দৌড়ে বাংলাদেশ এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে ভারত, দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান এবং তৃতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপাল। অন্যদিকে, আফগানিস্তান ও ভুটানের উৎপাদন বাংলাদেশের তুলনায় কম।

বিশ্বে ফার্মের মুরগির মাংস উৎপাদনে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালে দেশটিতে উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ। উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, জৈব-নিরাপত্তা এবং সরকারি সহায়তার কারণে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই এই অবস্থান ধরে রেখেছে।

উৎপাদনের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। দেশটিতে গত বছর উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৭০১ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুরগির মাংস রপ্তানিকারক দেশও।

বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে থাকা বাকি দুটি দেশ হলো রাশিয়া ও ভারত। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় উৎপাদন হয়েছে ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন এবং ভারতে উৎপাদন হয়েছে ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন।

এ ছাড়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, মিশর, তুরস্ক ও জাপান।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনা থাকলেও পোলট্রি খাদ্যের উচ্চ মূল্য, আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, খামারিদের প্রশিক্ষণের অভাব এবং বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগের কারণে উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হওয়ায় খামারিরা আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।

তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যের দাম কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হতে পারে।