ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে মুখ খুললেন ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান

স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা। ছবি : সংগৃহীত

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপের রেফারিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেন এবং তাদের সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের বাইরের প্রভাব বা চাপ নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর কলিনার এই বক্তব্য আসে। টুর্নামেন্ট চলাকালে একাধিক রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল আটলান্টায় অনুষ্ঠিত মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ।

ম্যাচে মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির দাবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও মিশর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হয় আফ্রিকার দলটির।

ফিফার অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বক্তব্যে কলিনা বলেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই, আমরা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছি এবং এখনো আটটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা রেফারিংয়ের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনা করতে গেলে কিছু বিষয় সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী নাও হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে রেফারিরা নিজেদের উন্নতি করতে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে আরও কঠোর পরিশ্রম করেন।’

রেফারিং নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে কলিনা বলেন, সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হলেও প্রমাণ ছাড়া রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই খেলার অংশ থাকবে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের ফুটবলে কোনো স্থান নেই। বিশ্বকাপের রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারো নেই।’

কলিনা আরও জানান, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে রেফারি ও তাদের পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কলিনা বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতিতে রেফারি এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি আসতে পারে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ফিফার রেফারিং ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়েও জোর দেন কলিনা। তিনি বলেন, ‘কেউই দাবি করতে পারবেন না যে ফিফা রেফারি কমিটি কোনো পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও নন। তিনি সবসময় রেফারিং দলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন এবং বিশ্বাস করেন যে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করি।’

ভিএআর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কলিনা ভিএআর ব্যবস্থার কার্যপ্রণালি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কোনো গোল হওয়ার পর ভিএআর শুধু শেষ মুহূর্তের ঘটনা নয়, বরং গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া পুরো আক্রমণ পর্যালোচনা করে।

কলিনার ভাষায়, ‘যদি আক্রমণের কোনো পর্যায়ে এমন ফাউল ধরা পড়ে, যা গোলকে প্রভাবিত করেছে, তাহলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে বিষয়টি পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেয়।’

তিনি জানান, গোলের আগে ফাউলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের কোনো সীমা নেই।

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে কলিনা বলেন, ‘মিশরের খেলোয়াড় মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে পা দিয়েছিলেন, যা খেলার নিয়ম অনুযায়ী ফাউল।’

তবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো ডিফেন্ডার প্রথমে সফলভাবে বল খেললে এবং এরপর স্বাভাবিক খেলার ধারায় সামান্য সংস্পর্শ হলে সেটিকে ফাউল হিসেবে ধরা হয় না।

ম্যাচের শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার ঘটনাটি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কলিনা। তার মতে, রেফারি ও ভিএআর ওই ঘটনাকে খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে, ফাউল হিসেবে নয়।

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে কলিনার ব্যাখ্যার পরও ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।