ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

‘আ.লীগ সরকার কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণে জালিয়াতি করেছে’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী-ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মিত রেললাইনের জন্য কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। সরকারি হিসাবে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণের দাবি করা হলেও বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেক কম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু আমি নিজে যাচাই করে দেখেছি, সেখানে বড়জোর দুই লাখের মতো গাছ আছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধি গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।’ এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’-সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

অযৌক্তিকভাবে গাছ না লাগানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইচ্ছামতো গাছ রোপণ করলে আমাদের লক্ষ্য সফল হবে না। কোন পরিবেশে, মাটিতে ও আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে ব্যাপকভাবে রোপণ করা ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির বনজ, ফলদ, ঔষধি, অর্কিড, বাঁশ এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্ব দিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।’

যেখানে-সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক যুবককে রাস্তায় খাবারের প্যাকেট ছুড়ে ফেলতে দেখেছেন। এ ধরনের আচরণ বন্ধে পরিবেশকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশুপাখি, কীটপতঙ্গ—সবকেই আমাদের রক্ষা করতে হবে। কোনো একটি পোকা বা মাকড়সা দেখলেই আমরা মেরে ফেলি। অথচ সেটি যদি আপনাকে কোনো ক্ষতি না করে, তাহলে তাকে মারার প্রয়োজন কী? আবার একটি পাখি দেখলেই আমরা ঢিল ছুড়ে মারি। এসব বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সচেতন করে তুলতে হবে।’

সর্বশেষে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক—এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। দেশ হোক সব প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আবাসস্থল।’