ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে যুদ্ধের বড় মঞ্চ : মারিভ

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সংবাদপত্র মারিভ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন ১৯ জুলাইকে ইসরায়েল একটি সম্ভাব্য ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচনা করছে। পত্রিকাটির মতে, এ দিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং অভূতপূর্ব উত্তেজনা বৃদ্ধির সূচনা হতে পারে।

প্রতিবেদনে সামরিক বিশ্লেষক আভি আশকেনাজির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১৯ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কৌশলগত সুযোগ’ তৈরি করবে। এ সময় তিনি তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বৃদ্ধি করবেন, নাকি দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেবেন- সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।

আশকেনাজির মতে, ১৯ জুলাইয়ের গুরুত্ব কোনো নির্দিষ্ট সামরিক কারণে নয়; বরং এটি বিশ্বকাপ ফাইনালের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মদিন উদযাপন এবং টুর্নামেন্ট থেকে মার্কিন দলের বিদায়সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যস্ততা শেষ হয়ে যাবে। ফলে মার্কিন প্রশাসন ইরান ইস্যুতে আরও মনোযোগ দিতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের সমাপ্তি ‘টুর্নামেন্টের শেষ বাঁশি’ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য সংঘাতের ‘পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা বাঁশি’তে রূপ নিতে পারে।

মারিভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতেই রয়েছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি, নৌ অবরোধ আরোপ, সীমিত সামরিক অভিযান কিংবা বৃহৎ পরিসরের হামলা।

অন্যদিকে, পত্রিকাটি মনে করে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা লেবানন, গাজা, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে থাকা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ত্যাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

আশকেনাজির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল নেতৃত্ব দিচ্ছে না; বরং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ও হোম ফ্রন্ট কমান্ড তাদের প্রস্তুতি কমায়নি। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরক্ষামূলক কিংবা আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

মারিভের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন লায়ন’স রোয়ার’-এর ফলাফলকে আরও সুসংহত করবে। এর জন্য চারটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ১) ইরানকে নিজেদের বিজয়ের আখ্যান প্রতিষ্ঠা করতে না দেওয়া। ২) ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। ৩) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করে দেওয়া। ৪) এমন একটি আঘাত হানা, যা ইরানি শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তবে পত্রিকাটি স্পষ্ট করেছে, যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের ভবিষ্যৎ মূলত হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি মূল্যায়নে ১৯ জুলাইকে উত্তেজনা বৃদ্ধির নতুন পর্যায় শুরুর সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের সমাপ্তি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এ কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।