ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

ইরানের ৯০টির বেশি স্থাপনায় নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ৯০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। টানা দ্বিতীয় রাতের এই অভিযানে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়াই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ইরানের উপকূলীয় এলাকায় থাকা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। এর আগে চালানো হামলায় আরও ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথাও জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সর্বাধিনায়কের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এসব হামলার লক্ষ্য।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিকসহ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। তিনি ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে না। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।