ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

কাতার-বাহরাইন-কুয়েতে একযোগে হামলা চালাচ্ছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলাকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অবসানের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে এই হামলা চালায়।

ওমান উপকূলে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর গত বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও বন্দর স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের ওপর চালানো সর্বশেষ হামলাগুলো আগের দিনের তুলনায় আরও ব্যাপক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তর এলাকায় অন্তত দুবার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। তবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তারা সক্রিয়ভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে।

সামরিক কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রতি ইরানের হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেওয়া।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কমপ্লেক্সের আশপাশ, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিক।