ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীতে ‘কুত্তা ফারুক’সহ ছিনতাইকারী চক্রের ৭ সদস্য আটক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় ডাকাতি ও হামলার প্রস্তুতির অভিযোগে ‘কুত্তা ফারুক’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিসহ একটি ছিনতাই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চাপাতি, সামুরাইসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের শেখেরটেক ৭ নম্বর ব্রিজের শেষ প্রান্তে একটি গলিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: মো. সাইদ (২৪), আকাশ (২৩), মো. ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক (২৬), কর্নেল (১৯), মো. মাইন উদ্দিন (২১), মো. সিফাত ওরফে হিটার (২২) এবং মো. নাহিদুল (২৫)।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ‘ভাইস্তা বিল্লাল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই এবং পুলিশের সোর্সদের ওপর হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের ফলে অপরাধ সংঘটনের আগেই পুরো দলটিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের ভিড় জমে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এই চক্রের সদস্যরা জড়িত। তবে গ্রেপ্তারের পরও তারা দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কার কথাও জানান স্থানীয়রা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কুত্তা ফারুক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি ‘কাইল্ল্যা জহির’-এর নেতৃত্বে আদাবর ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা উদ্যান, নবীনগর ও চন্দ্রিমা হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তিনি ও তার সহযোগীরা নিয়মিত ছিনতাই করতেন বলেও জানা গেছে। এলাকায় তিনি ‘কুত্তা ফারুক’ নামেই পরিচিত বলে জানান।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় ছিনতাই ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং নতুন অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।