ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ নিয়ে যে প্রশ্ন তুলল মিশর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:২১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ গোলের পরাজয়ের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

গত মঙ্গলবারের ম্যাচে শুরুতেই ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক আক্রমণের পর মোস্তফা জিকো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন বলে মনে করেছিল দলটি। তবে ভিডিও পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়।

রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার জানান, গোলের আগে আক্রমণের ধারায় মারওয়ান আত্তিয়াকে ফাউল করা হয়েছিল।

এরপর ৬৭ মিনিটে জিকো আবারও গোল করে মিশরের ব্যবধান ২-০ করেন। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিওনেল মেসির গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহকে জুলিয়ান আলভারেজ ফাউল করলেও পেনাল্টি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় মিশর। মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে দাবি করেন, তার দল অবিচারের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা অন্যায্য ছিল। মিশরেরই যোগ্যতা অর্জন করা উচিত ছিল। আমরাই ছিলাম সেরা দল।’

কোচের বক্তব্যের পর মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে ম্যাচ পরিচালনা এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের সমালোচনা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে দেখা রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নীরব থাকতে পারে না। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং ম্যাচের গতিপথে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।’

আরও বলা হয়, ‘স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক ম্যাচ চলাকালে বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী রেফারিং সিদ্ধান্তগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এটি আবারও প্রমাণ করে যে বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ম্যাচ পরিচালনায় সততা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা জরুরি।’

বিবৃতিতে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, ‘মিশরীয় ফুটবল সবসময় ফেয়ার প্লে, ক্রীড়াসুলভ আচরণ এবং খেলার প্রতি সম্মানের নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এসব নীতির দাবি হলো—সব দল যেন সমান সুযোগ ও সমান আচরণ পায়।’

‘ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি করেছে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তারা সর্বোচ্চ মানের রেফারিং প্রত্যাশা করেছিল,’ যোগ করে সংস্থাটি।