ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দুশ্চিন্তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও দুই দিন, আবার কোথাও তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের বিঘ্নে অনলাইনে পড়াশোনার উপকরণ সংগ্রহ, মোবাইল চার্জ দেওয়া এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবের মুখে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই শুরু হওয়া ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষায় বোর্ডটির অধীনে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে পৃথক নির্দেশনায় চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল।

তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ও সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে গাছ উপড়ে ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইনের ওপর পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরীক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। অনলাইনে প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহ, মোবাইল বা ল্যাপটপ চার্জ দেওয়া এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন।

পটিয়ার এক পরীক্ষার্থী বলেন, কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন ফটিকছড়ি ও অন্যান্য উপজেলার শিক্ষার্থীরাও।

অন্যদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির সরবরাহ বন্ধ থাকায় পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংকের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবুও প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন সচল করতে মাঠে কাজ করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কারণ বৃষ্টির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে বিদ্যুৎ চালু করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বলেন, ভারী বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়া, খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে সব ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি তিনি গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার পড়ে থাকতে দেখলে তা থেকে দূরে থেকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।