ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

বৃষ্টি আসলেই আতংক

ভিজে রাত কাটে ৭০ বছর বয়সি মনোয়ায়ার

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বৃষ্টি নামলেই মনোয়ারা বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। ৭০ বছরের শরীর, কিন্তু চোখে ঘুম নাই। কারণ চার চালার উপরে যে ৫-৬টা টিন, তার সবই ফুটো। ঝরঝর করে পানি পড়ে। ভেজা কাঁথা বুকের কাছে জড়িয়ে বসে থাকেন। জোরে বাতাস দিলে মনে হয় এই বুঝি ঘরটা উড়ে গেল। চার খুঁটির ঘর, পাটকাটির বেড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পরিত্যক্ত। অথচ এটাই তার রাজ্য। এটাই তার শেষ ঠিকানা। বলছি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের মালিদহ গ্রামের বিধবা মনোয়ারা বেগমের কথা।

মনোয়ারা বেগমের একটা সময় সুখের সংসার ছিল। সেই সুখের সংসারে কালো মেঘ নেমে আসে স্বামী মোস্তফার মৃত্যুতে। ৩০ বছর আগে মনোয়ারা বেগমের স্বামী মোস্তফা চলে গেছেন পরপারে। রেখে গেছেন ২টা বাচ্চা- ছেলে মিল্টন আর একটা মেয়ে।

মনোয়ারা বেগম মানুষের বাড়ি কাজ করেন। মাথা গোঁজার ঠাই হয় অন্যের বাড়ির উঠানের কোণে ছোট্ট একটা ঘরে। সময়ের পরিক্রমায় ছেলেটা একটু বড় হয়ে সংসারের হাল ধরতে ভ্যান চালাতে থাকে। বিধবা মা স্বপ্ন দেখতে থাকে সুখের। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে যায় মনোয়ারা বেগমের। প্রতিদিনের মতো এক সকালে ভ্যান নিয়ে কাজে বের হয় মিল্টন। দিন গড়িয়ে রাত হলেও ফিরে আসে না সে। এ অবস্থায় খবর আসে ভ্যান ভাড়া নিয়ে গিয়ে মিল্টনকে মেরে ফেলেছে দুষ্কৃতকারীরা। খবর পেয়ে মা-বোনের আহাজারিতে শোকে থমকে যায় বাতাসও যেন। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। সেই দিনের পর থেকে মনোয়ারার পৃথিবী অন্ধকার। এর মাঝেই মেয়েটাকে কোনো রকমে বিয়ে দেন। এতে পৈতৃক শেষ জমিটুকুও শেষ।

বর্তমানে ভরসা মাসে ৫০০ টাকার বিধবা ভাতা। আর অন্যের বাড়িতে থালা-বাসন মাজা। প্রতিবেদকের সামনে তিনি আঁচলে চোখ মুছে বলেন, বাবা, আমার কিছু লাগবে না। শুধু বৃষ্টির দিনে যেন মাথার ওপর একটা ছাউনি থাকে। পুরাতনগুলা দিয়ে বেড়া দেব। তাহলে আর ভিজতে হবে না। নিশ্চিতে একটু ঘুমাতে পারবেন- এটুকই তার চাওয়া।

তিনি বলেন, আগের মতো আর কাজ করতে পারি না বাবা। এই টাকা কটায় পেট চলবে, না ওষুধ কিনব? বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিনকে জানালে তিনি বলেন, আবেদন করলে সরকারিভাবে টিনের ব্যবস্থা করা যাবে।