ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত ৫ শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদরাসায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিহত হয়েছেন ৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে।

ক্যাম্প প্রশাসন জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়।

নিহতরা হলেন: ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ ব্লক-১১ এলাকার বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশেদা বেগম (১৩), এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩), ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুস শুক্কুরের মেয়ে উম্মে সালমা (১২), ব্লক-৮-এর মোহাম্মদ ইলিয়াছের মেয়ে উমাইচা বিবি (১৩) এবং শামসুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩)।

ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা নারী মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও চারজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযান বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেষ হয়। বর্তমানে আহত ৬ জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া গুরুতর আহত দুই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রশাসন নিশ্চিত করে যে নিহতের সংখ্যা ৫। কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরুতে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারলেও পাহাড়ঘেঁষা একটি কক্ষে থাকা কয়েকজনের ওপর হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে, ফলে তারা আটকা পড়েন।

ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসার ছুটি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে নির্মিত স্থাপনাটির পাশের ঢাল ধসে পড়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত রোববার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত জেলায় ৫৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। বর্তমানে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।