ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীর যানজট কমাতে বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা বসানো হবে।

বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৩৭টি এআই ক্যামেরা এবং বিভিন্ন স্থানে ৮০টি পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পের প্রথম ধাপে মতিঝিল, উত্তরা, শাহবাগ-আবদুল্লাহপুর ভিআইপি সড়ক, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) এবং মিরপুর এলাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ডিএমপির লক্ষ্য, আগামী আগস্টের মধ্যেই এসব এলাকায় এ প্রযুক্তির কার্যক্রম শুরু করা।

ইতোমধ্যে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার মাসে ৬০টি, পরবর্তী চার মাসে আরও ৬০টি এবং বাকি ৮০টি ক্যামেরা ধাপে ধাপে স্থাপন করা হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, রাজধানীজুড়ে ২০০টি নতুন এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্বাচল এলাকায় কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।

এই ক্যামেরাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা। এআই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে ডিএমপির সার্ভারে পাঠানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তথ্য যাচাই শেষে ডাকযোগে মামলার নোটিশ পাঠান এবং সরকারি নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো হয়।

৩৬০ ডিগ্রি ঘোরার সক্ষমতা এবং অপটিক্যাল জুম সুবিধাসম্পন্ন এসব ক্যামেরা চলমান যানবাহনের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। দূর থেকেও স্পষ্টভাবে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকায় আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হচ্ছে।

ডিএমপির ‘স্মার্ট পুলিশিং’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে এআই ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন সিসিটিভি এবং বুদ্ধিমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে পুরো শহরে প্রায় ১২ হাজার ক্যামেরার প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বাকি ক্যামেরাগুলো অপরাধ তদন্ত ও নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমানে মৎস্য ভবন, সুগন্ধা, পুলিশ ভবন, শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং, বিজয় সরণি, সায়েন্স ল্যাব ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সব মিলিয়ে ডিএমপির অধীনে বর্তমানে ১১৭টি ক্যামেরা কাজ করছে, যা রাজধানীর প্রায় ১০ শতাংশের কিছু বেশি এলাকা কভার করছে।

গত ৭ মে থেকে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, যেখানে এআই ক্যামেরা রয়েছে সেখানে চালকদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ডিএমপির তথ্য বলছে, এআই ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে নির্ধারিত লেন ছেড়ে অন্য লেনে চলা, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং সিগন্যালের নির্ধারিত স্থানে না থামার মতো অপরাধে বাসের বিরুদ্ধেই বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপর রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।

তবে ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর যেসব এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর নয়, সেখানে সিগন্যাল অমান্যের অভিযোগে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করা সম্ভব হচ্ছে না।