ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সিকিউরিটি গার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
সিকিউরিটি গার্ড পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার একটি নীরব অভ্যাস ছিল—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানো। বিষয়টি একসময় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে আব্দুস সালামের জন্য উপহার পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনা এলাকায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু উপহার তুলে দেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের খোঁজখবর নেন।

জানা গেছে, আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত আট মাস ধরে তিনি রাজধানীর পুরাতন রমনা থানার সামনে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। তবে স্ট্রোক করার পর আর গাড়ি চালাতে না পারায় বাধ্য হয়ে এ পেশায় যোগ দেন। বর্তমানে অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাতায়াতের সময় প্রতিদিন বুথের সামনে দাঁড়িয়ে হাতে ধানের শীষ নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন আব্দুস সালাম। তার এই নীরব ভালোবাসা ও সম্মান প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারিকে সালামের খোঁজখবর নিতে এবং তার হাতে উপহার পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে লক্ষ্য করবেন এবং আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভালোবাসি। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি প্রতিদিন তাকে সালাম জানাই। তিনিও গাড়ির ভেতর থেকে হাসিমুখে সালামের জবাব দেন এবং হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের কথা প্রধানমন্ত্রী মনে রেখেছেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এমন মূল্যায়ন একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।