ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

মেসিদের কাছে নাটকীয় হার, বীরের বিদায়ে গর্বিত মিশর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চরম নাটকীয়তা, অনবদ্য ফুটবল এবং শেষ মুহূর্তের হৃদয়ভাঙা পরিণতিতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ফারাওদের দেশ মিশর। রাউন্ড অব সিক্সটিনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের। তবে এই পরাজয়ের পরও গোটা মিশরজুড়ে এখন আলোচনায় তাদের ফুটবলারদের সাহসী ও লড়াকু পারফরম্যান্স।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলতে থাকে মিশর। প্রথমার্ধে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোল ব্যবধান ২-০ করেন। এর আগে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে নায়ক বনে যান মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব। তখন কায়রো, গিজা ও আলেকজান্দ্রিয়াসহ দেশের বিভিন্ন শহরে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠেন।

তবে ম্যাচের শেষ ভাগে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ৭৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ব্যবধান কমায় আর্জেন্টিনা। মাত্র চার মিনিট পর লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মিশর।

এই নাটকীয় হারের পর মিশরীয় সমর্থকদের মধ্যে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি সেটি উপেক্ষা করেন। সমর্থকদের দাবি, সেই সিদ্ধান্ত থেকেই আর্জেন্টিনার গোলের সুযোগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে মিশর বঞ্চিত হয়েছে।

অন্যদিকে, পরাজয়ের মধ্যেও প্রশংসায় ভাসছেন প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও এবারের বিশ্বকাপে দলকে যেভাবে সংগঠিত করেছেন, তা মিশরের সোনালি দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে বলে মনে করছেন অনেক সমর্থক। টুর্নামেন্ট চলাকালে গাজার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন করায়ও তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে স্বপ্নভঙ্গ হলেও মিশরের ফুটবলারদের লড়াই দেশটির মানুষের মনে গর্বের জায়গা করে নিয়েছে। পরাজয়ের বেদনা, রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ—সবকিছুর মাঝেও একটাই কথা উচ্চারিত হচ্ছে মিশরজুড়ে, ম্যাচ হারলেও তাদের ছেলেরা বীরের মতোই লড়েছে।