ডলার সংকট ও এলসি জটিলতায় থমকে গেছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় আদায় নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টম হাউসে বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি বন্দরটি। ফলে অর্থবছর শেষে রেকর্ড ৯৫০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে ভোমরা কাস্টম। কাস্টম হাউসের জনপ্রশাসন দপ্তর থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাস্টম দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা কিন্তু আদায় হয়েছে ১১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। মোট রাজস্ব ঘাটতি ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় এবার রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনে আমদানি হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এবং শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অবশ্য কাস্টম কর্মকর্তাদের দাবি— শুল্ক ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি ও উন্নত পরিকল্পনার কারণে সম্ভাব্য আরও বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ভোমরা বন্দরের সার্বিক বাণিজ্য খাত। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, এলসি (ঋণপত্র) খোলায় তীব্র জটিলতা এবং ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাটছে না। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্য সক্ষমতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ভোমরা কাস্টম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান: সম্প্রতি বহুমুখী সমস্যার কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব খাতে। ফলে এই বড় ধাক্কা লেগেছে। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে হলে এখন সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
বিশাল এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন বাজেটের আওতায় ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

