নেই ঘর-বাড়ি। ঝড়, বৃষ্টিতে ভিজতে হয় তাকে। বছরের পর বছর থেকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়। আর কতদিন, আর কত বছর- রাজনৈতিক কারণে হারিয়েছেন পরিবার। ছেড়ে চলে গেছে স্ত্রী-সন্তান-পিতা। তবুও কোনো রাজনৈতিক অভিভাবক খোঁজ নেননি, কেউ কথা দিয়েও কথা রাখেননি।
বিএনপি করে দীর্ঘ ১৭ বছরে নির্যাতনের শিকার, দল করে সংসার হারানো, হতদরিদ্র, নির্যাতিত এক নেতা জাহিদুল ইসলাম অমি। তিনি নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
৫ আগস্টের পরও তিনি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। নেই ঘরবাড়ি। বাধ্য হয়ে তিনি এখন আশ্রয় নিয়েছেন, উপজেলার বাঁশিলার বিএনপি দলীয় কার্যলয়ে। জাহিদুল ইসলাম বাঁশিলা গ্রামের মো. আক্কাস আলী ছেলে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার মাধনগর ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে কাঁথা, বালিশ, তোষাকসহ বিভিন্ন আসবারপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। দিনমুজুরি দিয়ে সেখানেই এসে খাওয়া, সেখানেই ঘুম। ঝড়, রোদ, বৃষ্টি যাই হোক, সেখানেই থাকতে হচ্ছে তাকে। যেন দেখার কেউ নাই।
উপজেলার বাঁশিলা ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান সিরাজ, মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়ন সহসভাপতি রায়হান মিনা, ছাত্রদলের কর্মী শাকিল খান,
বলেন, আমাদের জাহিদুল ইসলাম ভাই খুবই অসহায় এবং দলপ্রেমী একজন মানুষ। তিনি বাধ্য হয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা চাই, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন যেন তার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেয়। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
নির্যাতিত নেতা ও স্থানীয় কণ্ঠশিল্পী জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, বছরের পর বছর আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় থেকেছি। আর কতদিন, আর কত বছর থাকা যায়। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে হারিয়েছি পরিবার। ছেড়ে চলে গেছে স্ত্রী-সন্তান-পিতা। তবুও রাজনৈতিক কোনো অভিভাবক খোঁজ নেননি, কেউ কথা দিয়েও কথা রাখেননি। রাজনৈতিক নেতা, সরকারপ্রধানের কাছে আমার দাবি। জীবনে চলার মতো, তারা যেন আমার একটি ব্যবস্থা করে দেন।

