ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

ময়মনসিংহ নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। ভোর রাত থেকে বৃষ্টির পানি জমে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, অলিগলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেকের বসতঘরে পানি উঠায় বেড়েছে ভোগান্তি। 

অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অতীতেও একই ধরনের বৃষ্টিতে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এ বছরের। বৃষ্টির পানির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যা প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।

হেলথ অফিসার গলির হামিদা আক্তার বলেন, পানি চলাচলে ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় বাসাতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে গেছে। আমরা প্রতি বছর এই সময়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে থাকি। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমাদের এই অবস্থা। 

চরপাড়া মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুরের আবুল বাশার। তিনি বলেন, রাস্তায় হাঁটুপানির কারণে কয়েকশ মিটার রাস্তা অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যেতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালেও পানি উঠায় আমার মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শুধু অস্থায়ীভাবে পানি অপসারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের অনেক জায়গায় ড্রেনের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই মানুষের বাসাবাড়িতে পানি উঠে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন খনন জরুরি হয়ে পড়েছে। এখন যেভাবে ড্রেন করা হচ্ছে তা শুধু করার জন্যই করা হচ্ছে। এতে আসলে নগরবাসীর সুফল আসবে না। 

সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ থেকে ২০২৫ এই পাঁচ অর্থবছরে ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার বলেন, ভারি বৃষ্টির কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নামছে। সকাল থেকে আমি বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছি। মূলত অলিগলিতে পানি জমে আছে। এর কারণ হচ্ছে বহুতল ভবনের মালিকগণ অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনে ময়লা আবর্জনা ফেলে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে।