দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনভর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২০টি জেলায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
দিনভর আন্দোলনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী রাত পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারেননি। ফলে পরীক্ষার আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তারা। অথচ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালেই পদার্থবিজ্ঞানসহ পাঁচটি বিষয়ের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বুধবার পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
এদিকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা বাদে ৫৯ জেলায় আলিমের আরবি সাহিত্য দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হবে।
পরীক্ষা স্থগিতের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগের দিন সাধারণত পুনরাবৃত্তি ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এবার তাদের মনোযোগ বারবার আন্দোলনের কর্মসূচি, শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের সম্ভাব্য ঘোষণার দিকে চলে যাচ্ছে।
ঢাকার এক বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না আগামীকালের পরীক্ষা হবে কি না। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা খুব কঠিন। আজকের পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তত বুধবারের পরীক্ষাটি স্থগিত করা উচিত।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই নীতি অনুসরণ করে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। তাদের মতে, সবার জন্য সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আবহাওয়া, বন্যা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করেই আপাতত পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

