প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং সামার-২০২৬ টার্মে ভর্তি হওয়া ৫৪৬ জন নবীন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
র্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফুল ও ফলজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সামার-২০২৬ টার্মে স্নাতক (বিএস) পর্যায়ে ৫১৩ জন, স্নাতকোত্তর (এমএস) পর্যায়ে ৩০ জন এবং পিএইচডি পর্যায়ে ৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ্ মৃধা স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও গবেষণাভিত্তিক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম নবীন শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি ও শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী ও অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা ও কৃষি গবেষণার অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি জানান, টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট রেটিং ২০২৬-এ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি-১ সূচকে বিশ্বের ৮২তম, এসডিজি-২-এ ৬৬তম এবং এসডিজি-৪ সূচকে ১০১-২০০-এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ফর ইনোভেশন (উরি) ২০২৬-এ ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নমুখী প্রযুক্তি হস্তান্তর’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে ২৩তম এবং কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: সাসটেইনেবিলিটি ২০২৬-এ দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয়টি উন্নত জাতের উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ৯৭টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ২০টির বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে অবদান রেখে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে হবে। এজন্য বর্তমান সরকার ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’ নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে হার্ভার্ড, ক্যামব্রিজ ও এমআইটির আদলে গড়ে তোলা হবে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী। ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

