রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা গ্রামের এক আদিবাসী কিশোরী ধর্ষণ মামলার ১২ জুলাই রায়কে সামনে রেখে ন্যায্য বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রেংগী ম্রো বলেন, আমরা এ ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা দাবি জানাই, অভিযুক্ত ফাদার গ্রেগরির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো আদিবাসী নারী, কিশোরী বা বাংলাদেশের কোনো নারী এ ধরনের সহিংসতার শিকার না হন, সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে সহ-সভাপতি লাপল কড়া বলেন, আজকের এই মানববন্ধন শুধু একটি ঘটনার বিচার দাবির কর্মসূচি নয়; এটি দেশে ও বিশ্বজুড়ে নারীদের প্রতি চলমান অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ। বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি আড়াল করার অভিযোগও ওঠে। রাজশাহীর মুন্ডুমালা মিশনের ঘটনাতেও এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ হোক। বিশেষ করে আদিবাসী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নারীরা তুলনামূলক বেশি সহিংসতার শিকার হন। এর ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও ভয় পান। তাই আমরা এ ঘটনার অভিযুক্ত ফাদার গ্রেগরির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকায় ‘সাধুজন মেরী ভিয়ান্নী গির্জা’র পাশ থেকে ঘাস কাটতে গিয়ে এক আদিবাসী কিশোরী নিখোঁজ হন। পরদিন (২৭ সেপ্টেম্বর) তাকে খুঁজে না পেয়ে তার ভাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর গির্জার ফাদারের কক্ষ থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

