বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবার সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৭টায় ক্যানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
অতীতের পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দলের সাত দেখায় এখনো জয়ের মুখ দেখেনি সুইজারল্যান্ড। পাঁচটি ম্যাচ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা, আর বাকি দুটি ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চেও দুইবার মুখোমুখি হয়ে দুবারই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা—১৯৬৬ সালে ২-০ এবং ২০১৪ সালে ১-০ ব্যবধানে।
তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামলেই বিশ্বকাপে নিজের রেকর্ডের ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের সব পর্ব মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে গোল করে গড়েছেন আরেকটি বিরল কীর্তি।
অবশ্য শেষ ম্যাচে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা। অস্ট্রিয়া ও মিশরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপের এক আসরে দুই পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন তিনি।
তবে পেনাল্টি ব্যর্থতা মেসির গোলের ধারায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা আট। কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত এক আসরে এটিই কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা।
আর একটি গোল করতে পারলেই দক্ষিণ আমেরিকার কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড আদেমিরের ১৯৫০ বিশ্বকাপে করা ৯ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও একটি অনন্য কীর্তি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।
এখন দেখার বিষয়, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে দলকে সেমিফাইনালে তোলার পাশাপাশি নতুন ইতিহাসও গড়তে পারেন কি না ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা।


