ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

সাগরে নিখোঁজের চার দিন পর মিলল জেলে কালামের মরদেহ

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০১:২১ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জীবিকার তাগিদে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন, সাগরে যাই, টাকা না পেলেও মাছ তো পাব। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে গেল জীবনের শেষ যাত্রা। ট্রলারডুবির চার দিন পর বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জেলে কালাম খানের মরদেহ। একই ট্রলারের আরেক জেলে মো. শহিদ (৫০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে স্থানীয় জেলেরা গভীর সমুদ্র থেকে কালাম খানের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় মরদেহটি বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামে তাঁর বাড়িতে পৌঁছানো হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো জেলে পল্লী।

নিহত কালাম খান উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামের কাজল খানের ছেলে। নিখোঁজ মো. শহিদ একই গ্রামের সেরাজ মিস্ত্রির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন মাছ ধরার ট্রলার এমবি মহিমা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৮ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পরদিন ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কালাম খান ও মো. শহিদ নিখোঁজ হন।

স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব-অনটন দূর করার আশায় শেষবারের মতো মাছ ধরতে সমুদ্রে গিয়েছিলেন কালাম খান। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন, “সাগরে যাই, টাকা না পেলেও মাছ তো পাব।” কিন্তু সেই কথাই এখন তাঁর পরিবারের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে আছে। বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকা সন্তানদের কান্না এবং স্বজনদের আর্তনাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গ্রামে।

অন্যদিকে, নিখোঁজ জেলে মো. শহিদের পরিবারের সদস্যরা এখনো তাঁর ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। তাদের দাবি, স্থানীয় জেলেরাই নিজেদের উদ্যোগে তল্লাশি চালিয়ে জীবিত জেলেদের উদ্ধার করেছেন এবং পরে কালাম খানের মরদেহও উদ্ধার করেছেন। তারা নিখোঁজ শহিদকে উদ্ধারে আরও জোরালো অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে জেলেদের এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ মো. শহিদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ছোট আমখোলা জেলে পল্লীর মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত শহিদকে উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।