ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে পানি কমলেও দুর্ভোগ চরমে, স্রোতে ভেসে নিখোঁজ কিশোর

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০১:১৪ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

টানা সাত দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে ভয়াবহ বন্যার আট দিন পর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামলেও কাটেনি মানুষের দুর্ভোগ। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরই মধ্যে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে এক কিশোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী এলাকায় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয় সাজিদ দাশ (১২) নামে এক কিশোর। সে ওই এলাকার তোফান দাশের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহীন দেলোয়ার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ১৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের অন্তত দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। চকরিয়া পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও বরইতলী, হারবাং, চিরিঙ্গা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী, কোণাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা ও বিএমচর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষও বন্যার কবলে পড়েছেন।

বন্যার কারণে বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রান্না করার সুযোগ না থাকায় বহু পরিবার শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ার জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা এবং মাতামুহুরীর জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি হেঁটে ও নৌকায় করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এ সময় ইউএনও মোহাম্মদ শাহীন দেলোয়ার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও মোহাম্মদ শাহীন দেলোয়ার জানান, জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের পর আরও ত্রাণ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যায় হওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে।