ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যশোর সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির জয়ের পর সেখানে ব্যাপক হাঙ্গামা ও রক্তক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী অপরাধ ঠেকাতে যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, শক্তিশালী করা হয়েছে টহল কার্যক্রম এবং মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য। ফলে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান।

বিজিবি সূত্র জানায়, যশোর ৪৯ বিজিবি এবং খুলনা ২১ বিজিবির আওতাধীন প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান রোধে দিন-রাত সমানভাবে অভিযান ও নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি জয়লাভের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে রাজ্য পরিচালনায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পরাজিত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক ও মুসলিমদের ওপর হামলা, তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বুলডোজার চালানোর ঘটনা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। অবৈধ অনুপ্রবেশ, সহিংসতায় জড়িতদের সীমান্ত ব্যবহার এবং চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত বেনাপোলের রঘুনাথপুর, শিকারপুর, সাদীপুর, ঘিবা, পুটখালী, পাঁচভুলট ও গোগা এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিয়মিত টহল কার্যক্রম। পাশাপাশি সন্দেহভাজন চলাচল শনাক্তে সীমান্তজুড়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চেকপোস্টগুলোতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার হওয়ায় সীমান্তপথে অবৈধ চলাচল অনেকটাই কমে এসেছে। এতে সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে।

বেনাপোল সীমান্ত এলাকার আনিছুর রহমান, ইমাদুল ইসলাম, আব্দুর রহমানসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, আগে মাঝেমধ্যে সীমান্তপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ যাতায়াত ও চোরাচালানের খবর পাওয়া যেত। এখন বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চিত্র বদলেছে। নিয়মিত টহল থাকায় অপরাধীরা আগের মতো সহজে সক্রিয় হতে পারছে না।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদলকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা এসেছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধী বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত ব্যবহার করতে না পারে। সে জন্য বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন।’

তল্লাশি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিজিবির ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড মাদক, অস্ত্র ও অপরাধসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজিবির অধিনায়ক।