ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বহুল আলোচিত মোহন শেখ হত্যা মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান, সাংবাদিক আটক এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহত হন মোহন শেখ। এ সময় দুর্বৃত্তরা ব্যাপক হারে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরদিন নিহতের ছেলে আবদুর রশীদ শেখ ৪২ জনকে আসামি করে শৈলকুপা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে ৪ নম্বর আসামি শের আলী মণ্ডলকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মামলায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আশরাফুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় সংবাদকর্মীর গ্রেপ্তার। অভিযোগ রয়েছে, তার নাম এজাহারে না থাকলেও তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেলা কারাগারে রয়েছেন।
এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তারা ওই সাংবাদিকের মুক্তি, থানার ওসি অপসারণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
এদিকে মামলার বাদীও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ বিষয়ে আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতির মধ্যে গত ১ মে শৈলকুপায় এক অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সহিংসতা ও প্রাণহানির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


