ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সামাজিক সংগঠন ‘আগামীর শৈলকুপা’-এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ‘আগামীর শৈলকুপার উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শাহবুদ্দিন খানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনিরুজ্জামান পলাশ।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘আগামীর শৈলকুপা’-এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কুদ্দুস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, `আমরা শান্তির শৈলকুপা গড়তে চাই।' তিনি কুমার নদ খননের বিষয়ে জানান, আগামী প্রকল্পের আওতায় কুমার নদ খনন করা হবে এবং এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় তিনি শৈলকুপার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। মন্ত্রী জানান, মাগুরা থেকে শৈলকুপা, গাড়াগঞ্জ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আশা করি অচিরেই এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মান সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এলাকার প্রতিটি উন্নয়ন কাজ বুঝে নেবেন এবং নজরদারি করবেন।
উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উপজেলা ইউএনও কার্যালয়ের নতুন ভবনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, নতুন ভবনের বিভিন্ন স্থানে পানি পড়ছে, এমন নিম্নমানের উন্নয়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ সময় তিনি দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ ধরনের ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার নির্দেশ দেন।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নতুন এক্স-রে মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষা, উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলাসহ সাতটি বিষয়ে উপকমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে তিনি নিজ হাতে সাতটি বিষয়ের নাম লিখে সংগঠনের সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন।
সভায় বিভিন্ন বক্তা প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শৈলকুপার উন্নয়নে তার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় শৈলকুপার সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য শৈলকুপা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

