বর্ষার স্নিগ্ধ হাওয়ায় দুলছে সবুজ পাটখেত। কুমার নদের জলে চলছে পাট জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কৃষকের ঘামে জন্ম নেওয়া সেই ‘সোনালি আঁশ’ এবার যেন নতুন করে ফিরিয়ে দিচ্ছে আশার আলো। ভালো ফলন, অনুকূল আবহাওয়া এবং সন্তোষজনক বাজারদামে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাটচাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ মৌসুমে শৈলকুপা উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকির ফলে এবার ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২.৯ টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে মোট প্রায় ২৫ হাজার টন পাট উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, গত বছর পাটে ভালো লাভ হয়েছিল, তাই এবার আবাদ বাড়িয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে যদি এই দাম থাকে, তাহলে খরচ উঠে ভালো লাভ হবে। পাটই এখন আমাদের সবচেয়ে ভরসার অর্থকরী ফসল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন। এক সময় পাটে পোকার আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে কৃষকরা আমাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ করায় সেই বালাই থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, পাট জাগ দেওয়ার সময় জাগের ওপর পলিথিন বা উপযুক্ত আবরণ ব্যবহার করতে। এতে পাট সমানভাবে পচবে, জাগের ওপর চাপা দেওয়া মাটি, সরাসরি পাটের গায়ে লাগবে না, এতে আঁশের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং রং হবে আরও উজ্জ্বল সোনালি। এ বছর সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পাটের আঁশের মান ও রং আরও ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী। কৃষকরা যদি ন্যায্যমূল্য পান, তাহলে আগামী বছর পাটের আবাদ আরও বাড়বে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে পাটের চাহিদা বাড়ছে। উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সোনালি আঁশ’ আবারও গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। আর সেই সম্ভাবনার অন্যতম উজ্জ্বল জনপদ কৃষিসমৃদ্ধ শৈলকুপা।

