কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের মানবিক উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে শিকলে আবদ্ধ ভবঘুরে রাশেদ ব্যাপারি (৪০) স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদ আহমেদের সহায়তায় শিকলমুক্ত হয়ে তিনি পরিবারের কাছে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জানা যায়, শরীরের ওপর চটের বস্তা মোড়ানো অবস্থায় ঘাড় থেকে কোমর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কেজি ওজনের শিকল পেঁচানো ছিল রাশেদের শরীরে। এতে ১২টি তালা, ১৭টি আংটি এবং হাতের কব্জিতে চুড়ি ছিল। দীর্ঘদিন শিকল বহনের কারণে তার শরীর শক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
স্ত্রীর মৃত্যু, বসতভিটা ও জমি নদীগর্ভে হারানোর পর জীবনযুদ্ধে ভেঙে পড়ে রাশেদ ভবঘুরে হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশের সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নজরে আসার পর ওসি সাইদ আহমেদ রাশেদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মানবিক উদ্যোগে তাকে নিজের হেফাজতে নেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার শরীর থেকে ৪০ কেজি ওজনের শিকল, বস্তা ও অন্যান্য জিনিসপত্র অপসারণ করা হয়। এরপর তাকে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয় এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাশেদ ভৈরব রেলওয়ে জামে মসজিদে ওসির সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের লালপুর বাজার এলাকায়।
রাশেদ ব্যাপারি বলেন, স্ত্রী ও বাড়িঘর হারিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম। ওসি স্যার আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। এখন আমি আমার ছেলের কাছে ফিরে গিয়ে সৎভাবে বাঁচতে চাই।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে অটোচালনা বা ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করবেন।
ওসি সাইদ আহমেদ বলেন, স্টেশন এলাকায় অনেক ভবঘুরে মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে সহায়তা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। রাশেদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাকে শিকলমুক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর আগেও রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় কয়েকজন ভবঘুরেকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবঘুরে ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন