× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

তিন ভাই তিন দলের নেতা, সরকার বদলালেও নিরাপদ থাকে সবাই

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় একই পরিবারের তিন সহোদর তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, এই পরিবারটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে এসেছে। তবে তিন ভাইয়ের দাবি, প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শ থেকে রাজনীতি করছেন এবং একজনের সঙ্গে অন্যজনের রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই।

উপজেলা সদরের চরপাড়া গ্রামের এই পরিবারের বড় ছেলে মোশাররফ হোসেন করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক। মেজ ভাই মোবারক হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতি। ছোট ভাই মিজানুর রহমান মিজান করিমগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয়দের একাংশ বিষয়টিকে তিন ভাইয়ের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ক্ষমতার পালাবদলেও পরিবারটির প্রভাব ও সুবিধা অক্ষুণ্ন থেকেছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা ফরিদ মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলার কয়েকশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। আমার ধারণা, তার দুই ভাই যুবদল ও এনসিপির নেতা হওয়ায় তিনি এই সুবিধা পেয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগ আমলেও বড় ভাই মোশাররফ হোসেন ছোট ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সুবিধা পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন পেশায় আইনজীবী। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মোবারক হোসেন এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর তার প্রভাবের কারণে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশও চাপের মধ্যে কাজ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি-ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মোবারক হোসেনের প্রভাবেই মোশাররফ হোসেন পিপি পদে নিয়োগ পান। জেলা বিএনপি থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, সেখানে তার নাম ছিল না। এখন নতুন করে পিপি নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আবারও ওই পদে থাকতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবির করছেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, তিন ভাই তিন দলের নেতা, এ বিষয়টি সবারই জানা। এটি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। তবে পিপি নিয়োগের জন্য বিএনপি থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, সেখানে মোশাররফ হোসেনের নাম ছিল না। বিএনপির সুপারিশ করা তালিকা থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ভাইয়ের প্রয়াত বাবা জহিরুল হক মেম্বার বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যদিও তিনি কোনো দলীয় পদে ছিলেন না, তবে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে উপজেলায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা তিন ভাই হলেও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ আলাদা। আমি ছোট দুই ভাইকে অনেক সময় পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারা নিজ নিজ সিদ্ধান্তে রাজনীতি করছে।

পিপি পদে নিয়োগে এনসিপি নেতা ভাইয়ের প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ তদবির করেছে। আমিও চেষ্টা করেছি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করেছি। নিজের যোগ্যতা ও তদবিরের কারণেই নিয়োগ পেয়েছি।

যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সবারই নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক দল করার অধিকার রয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাস করি বলেই যুবলীগের রাজনীতি করছি। আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এতে যদি বড় ভাইয়ের কোনো অবদান থেকেও থাকে, সেটা অস্বীকার করব না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আমরা তো ভাই।

এ বিষয়ে এনসিপি নেতা মোবারক হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন আবারও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থানের সুবিধা পরিবারের অন্য দুই সদস্যও পাচ্ছেন বলে তাদের দাবি। বিষয়টি বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!