ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মামলার ক্ষোভে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ছাত্রদল নেতা দিদার মাহমুদ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিদার মাহমুদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাকে দলের সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

ছাত্রদল নেতা দিদারের অভিযোগ, ‘চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন আক্তারের প্রভাবে ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সালাহ উদ্দিনকে মারধরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার বাদী মো. ফরিদ ইউনিয়ন আওয়ামী প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি। এ নিয়ে ক্ষোভে তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়’।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন আক্তার বলেন, সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে মারামারির বিষয়টি আমি শুনেছি। মামলার বিষয়টিও জেনেছি। তবে দিদারকে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

অন্যদিকে দিদারকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জেলা ছাত্রদলের পদধারী একাধিক নেতা তাকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সজিব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, ‘সদর থানা পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার জোর দাবি জানাচ্ছি। দিদারকে বহিষ্কার করা সহজ, আবিষ্কার করা কঠিন। চররমনী ইউনিয়ন ছাত্রদলে গণপদত্যাগ চলবে’। 

সদর (পশ্চিম) উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বলেন, দিদার দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। এ জন্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা বিএনপিসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মামলা থেকে জামিন নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সালাহ উদ্দিনকেও হাসপাতালে দেখতে গিয়েছি। কিন্তু তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। তিনি নাকি অন্য কোথাও চিকিৎসা নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রদলের তিনজন নেতা জানায়, চররমনী ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান নয়ন আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন। দিদার ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নয়ন মেম্বারের সঙ্গে ঝামেলার কারণেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়। এখন আবার তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটি দুঃখজনক। 

দিদার মাহমুদ বলেন, ছাত্রদল নেতা রাসেলের সঙ্গে সালাহ উদ্দিনের মারামারি হয়। আমি তাদের ছাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু সালাহ উদ্দিনকে নয়ন আক্তার প্রভাবিত করে মামলায় আমার নাম জড়িয়ে দিয়েছে। সে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে, এখন আবার অস্বীকার করছে। সোমবার (৩০ মার্চ) আমি জামিন পেয়েছি। এসব ঘটনায় মন্তব্য করার ঘটনায় আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে সালাহ উদ্দিন বলেন, ২১ মার্চ আমার ওপর হামলার সঙ্গে দিদার জড়িত ছিল। এতে রাসেল ও দিদারসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে আমার ভাই ফরিদ। এ মামলায় নয়ন মেম্বারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। 

প্রসঙ্গত, দিদার তার ফেসবুক পোস্টে বিভিন্ন সময় স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘অডিও নাকি ভিডিও, আপনাদের কোনটা লাগবে’। ‘প্রিয় চররমনীবাসী, আপনারা সবাই প্রস্তুত তো মানববন্ধনের জন্য’। ‘খেলা যে চলছে কোন লেভেলে, দেখা হচ্ছে তো আগামী নির্বাচনে, একজন মানুষকে যেমন সম্মান দিতে জানি, সময়ের ব্যবধানে সম্মান কেড়ে নেওয়ার অধিকার রাখি, কিন্তু সম্মানের মর্যাদাটা আপনি রাখতে পারেন নাই, আপনি নিজেকে নিজেই একটা সোনা ভাবেন বুঝি’। ‘উপরে লিবিস্টিক মারার কারণে লাল, কিন্তু ভিতরে পুরা দেহটা একদম কালো, যারা দেখছি বা দেখছে একমাত্র তারাই জানে ভিতরে কেমন’।