ভারতের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গরু চোরাচালান রোধে লালমনিরহাট সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করেছে। শনিবার (৯ মে) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিজিবি।
বিজিবি জানায়, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাভাষি মুসলিমদের ‘অবৈধ’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সীমান্তের লাগোয়া গ্রামগুলোর অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে লালমনিরহাট সীমান্তের ১৪৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী শুধু বাংলাদেশি নয় বরং রোহিঙ্গা বা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করে মানুষকে পুশইন করার পরিকল্পনা করছে বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ গোটা সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিন ও রাতব্যাপী টহল কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তৎপরতা প্রতিরোধ করা যায়।
পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যাতে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে সে লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়।
একই সঙ্গে চেকপোস্টগুলোয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
সীমান্ত ঘুরে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লালমনিরহাট সীমান্তে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সীমান্তের বাসিন্দারা জানায়, শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা যেকোনো সময় বাংলা ভাষাভাষীদের পুশইন করতে পারে। এতে আমরা সীমান্তবাসীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছি। সম্প্রতি বিএসএফের তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিজিবির পক্ষ থেকেও টহল বৃদ্ধি করতে দেখা গেছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মানব পাচার ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন।
তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু চোরাচালান ঠেকাতেও আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে সীমান্তগুলোতে বিজিবি সবসময় সতর্ক অবস্থানে থাকে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময় এসব সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সজাগ থাকার আহ্বান করা হচ্ছে।


