ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

নির্মাণাধীন নার্সিং কলেজটি অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আশ্রয়স্থল

বন্ধ প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ বিল উত্তোলন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দেশে দক্ষ নার্সের সংকট দূর করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মাদারীপুরে আধুনিক নার্সিং কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের পর অসমাপ্ত অবস্থায় কাজ ফেলে চলে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত এবং আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন ভবনটি মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে জন্মেছে আগাছা ও লতাপাতা। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পড়ে আছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম, চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে মাদকের দুর্গন্ধ। নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভবনটিতে নিয়মিত মাদকসেবীদের আনাগোনা চলছে। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে সেখানে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নার্সিং কলেজ নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়াভিত্তিক মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। তবে কাজের অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ দেখিয়ে প্রায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠান দুটি অসমাপ্ত অবস্থায় কাজ ছেড়ে চলে যায়। পরে কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম বাতিল করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো শ্রমিক বা কর্মকর্তা এখানে আসে না। ভবনটি এখন বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, দিনে জায়গাটি নির্জন আর রাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ এ পথে চলাচল করতে ভয় পায়। দ্রুত কলেজের কাজ শেষ করে এটি চালু করা প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল খায়ের খান বলেন, দেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে কলেজটি চালু করা গেলে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আগের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন অচল থাকায় একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ নার্স তৈরির একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান চালু না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতও বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে নার্সিং কলেজটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।