মাগুরায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি, অনুমোদনহীনভাবে অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগে এক গ্যাস ডিলারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে মেসার্স জেনারেল গ্যাস হাউজ নামক প্রতিষ্ঠানে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানকালে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩৩০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছিল, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শত শত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত থাকলেও কতসংখ্যক সিলিন্ডার মজুতের অনুমতি রয়েছে-সে সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার ওজন করে দেখা যায়, একাধিক সিলিন্ডারে নির্ধারিত ওজনের তুলনায় কম গ্যাস রয়েছে।
অভিযানে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা একমাত্র অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটির মেয়াদ ২০২২ সালেই উত্তীর্ণ হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সৈয়দ খায়রুজ্জামানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ও ৫২ ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়।
অভিযান শেষে অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠানও তদারকি করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার জন্য সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করাসহ নানা অনিয়মের কারণে মেসার্স জেনারেল গ্যাস হাউজকে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।


