জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন মুন্সীগঞ্জ সদর থানা, সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও জেলার বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও ভোটের পরিবেশ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘ দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ এখনো দুষ্কৃতকারীদের হাতেই রয়ে গেছে। ফলে নির্বাচনি মাঠে এসব অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে ভোটারদের মনে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা, সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সে সময় ভয়ে পুলিশ সদস্যরা থানা ছেড়ে পালিয়ে গেলে সেখান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। ঘটনার পর ওই বছরই সদর সেনা ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মাইকিং ও বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিজ দায়িত্বে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপরও সব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সদর থানা, ফাঁড়ি ও বিভিন্ন থানা থেকে মোট ২৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ খোয়া যায়। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২০৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এখনো ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে—একটি চায়না রাইফেল, একটি শটগান, একটি তরাশ পিস্তল, চারটি সিজেড পিস্তল, একটি চায়না পিস্তল, চায়না এলএমজির তিনটি ড্রাম ম্যাগাজিন, একটি এসএমজির ম্যাগাজিন, চায়না পিস্তলের তিনটি ম্যাগাজিন, তরাশ পিস্তলের ১০টি ম্যাগাজিন, সিজেড পিস্তলের আটটি ম্যাগাজিন, ১ হাজার ৯৬২ রাউন্ড গুলি, ২ হাজার ৮১৩টি কার্তুজ ও ৭৪৪টি গ্যাসশেল।
এ ছাড়া থানায় জমা থাকা বেসরকারি লাইসেন্সকৃত ৪৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৩৫টি উদ্ধার হলেও এখনো ১০টি অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।
প্রার্থীদের অভিযোগ, থানা থেকে অস্ত্র লুটের মতো গুরুতর ঘটনার পরও এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মুন্সীগঞ্জ ৩ (সদর–গজারিয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে দায়ও তাদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং তার নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
একই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) প্রার্থী মুফতি নুর হোসাইন নুরানী বলেন, নির্বাচনের আগে থানা থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি অস্ত্রও বাইরে থাকলে নির্বাচন বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দ্রুত সব অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
স্বতন্ত্র (ফুটবল প্রতীক) প্রার্থী মহিউদ্দিন বলেন, সরকার পতনের পর কারা অস্ত্র লুট করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতা হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলমান। গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই এসব অস্ত্র নির্বাচনের সময় সহিংসতায় ব্যবহার না করা যায়।

-20260129135635.webp)

