ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগে আসন সংখ্যা ২৪। এর মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে স্থগিত করা হয়েছে নির্বাচন। বাকি ২৩টি আসনে জোরেশোরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। জামায়াতের প্রচারণার কৌশল, নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে জয়-পরাজয়ের জটিল সমীকরণের মধ্যে পড়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।
ময়মনসিংহের ১১টি আসনে ৬৭ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে। এর মাঝে ৯টি আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে লড়ছেন বিএনপির স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী। শেরপুরের দুটি আসনে একটি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামালপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপির স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে তুমুল লড়াই হবে ধানের শীষের প্রার্থীদের।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)
এই আসনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সালমান ওমর রুবেল জোর প্রচার চালানোয় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। রুবেলের বড় শক্তি দুর্দিনে মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করা। যদিও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষ প্রতীককে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন। তাদের ছাড়াও আরও চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১২ জন।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা)
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ সারোয়ার একটি হত্যা মামলায় জেলে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিনে বের হলে ঘোড়া প্রতীকে জোয়ার ওঠে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার।
ফুলপুর বাজারের ব্যবসায়ী হামিদ খান বলেন, সারোয়ারের বাড়ি ফুলপুর হওয়ায় এখানে একচেটিয়া ভোট পাবে। তারাকান্দার ভোটেও ভাগ বসাবে। নির্বাচন খুবই জটিল সমীকরণে এগোচ্ছে। তাদের ছাড়াও প্রচারের মাঠে আরও পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৭ জন।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর)
দলের দুঃসময়ে হামলা-মামলায় জেল খেটেও মনোনয়নবঞ্চিত দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন। ঘোড়া প্রতীকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসাইন। এখানকার ভোটার আল-আমিন হোসেন বলেন, দল প্রার্থী নির্ধারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই প্রচারের তুঙ্গে রয়েছে ঘোড়া। তবে ভোটের হিসাব এখনই মেলানো খুব কঠিন। আরও তিন প্রার্থী প্রচারে রয়েছেন।
এই আসনে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৮ জন।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর)
সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে ধানের শীষ নিয়ে বিরামহীন প্রচারে রয়েছেন বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তবে ছাড় দিয়ে কথা বলছেন না জোটের প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রচার বৃদ্ধি করে ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
বোররচর গ্রামের কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ফজর নামাজ পড়েই জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা প্রচার শুরু করেন। মানুষ বলছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখছি। কিন্তু জামায়াতকে দেখিনি। এবার কী হয়, বলাও যাচ্ছে না। এ দুজন ছাড়া আরও সাতজন প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৬ জন।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা)
এই আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
এই দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের গুণগান গেয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা জানিয়ে ভোটাররা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে চান।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ রুখতে মানুষ দাঁড়িপাল্লাকে বেছে নেবে।
ধানের শীষের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু বলেন, ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় রয়েছে সাধারণ ভোটাররা। মানুষ ধানের শীষের বাইরে যাবে না। প্রচারের মাঠে দেখা গেছে আরও তিন প্রার্থীকে।
এই আসনে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৭ জন।
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া)
আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম। এ আসনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে বিএনপির সাবেক এমপি শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা প্রচারের মাঠে আলোচনায় রয়েছেন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কামরুল হাসানের পাশাপাশি প্রচারে ঝড় তুলেছেন জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। প্রচারের মাঠে আরও একজন প্রার্থীকে দেখা গেছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শারমিন নাহার বলেন, চার প্রার্থীকে ঘিরেই মূলত নির্বাচন। তবে যেই পাস করুক, ভোটের ব্যবধান খুব বেশি একটা হবে না।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৭ হাজার ৯২৭।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল)
ত্রিশালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবেক এমপি আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত। তিনি কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। গত উপজেলা নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন সাদাত।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিন পরেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে ক্ষমতায় বসা হয়নি। তাই জনগণ এবারও ভোট দিয়ে আমাকে তাদের খিদমত করার সুযোগ দেবে। কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেন তিনি। তাদের ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়েছেন আরও চারজন প্রার্থী।
এই আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৯ জন।
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ)
মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহিন দল থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে হাতপাখা প্রতীকে লড়ছেন। এখানে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। জোটের প্রার্থী এলডিবির অ্যাড. আওরঙ্গজেব বেলাল।
ভোটাররা বলেন, বাবু এলাকায় দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বাইরে মানুষের চিন্তাভাবনা খুব বেশি হবে না। তিনজন ছাড়া ভোটের মাঠে রয়েছেন আরও এক প্রার্থী।
এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৯ জন।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল)
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচি হাঁস প্রতীকের হাসিনা খান চৌধুরী। হাসিনা খান চৌধুরী সাবেক চারবারের এমপি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী। তাদের নিজস্ব একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। প্রচার চলছে সমানে সমান।
হাসিনা খান চৌধুরী বলেন, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে শুধু প্রার্থী হয়েছি। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে রয়েছে। মানুষ স্বতন্ত্র কাউকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন না। আরও চার প্রার্থী প্রচারের মাঠে রয়েছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪১ জন।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হাঁস প্রতীকের আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। আরও সাতজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও ভোটাররা বলছেন, এ দুজনের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৬৪ জন।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)
ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে মনোনয়ন দেওয়ার পর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ভালুকার রাজনীতি। হরিণ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদুল আলম আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন। তিনি দানশীল নেতা হিসেবে মানুষের কাছে সুপরিচিত।
হবিরবাড়ি এলাকার ভোটার আজহারুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি ইউনিয়নে হরিণ প্রতীকে একচেটিয়া ভোট আসবে। দিন দিন হরিণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, যে যত কথাই বলুক না কেন, মানুষের আস্থা তারেক রহমানে। ধানের শীষ জোয়ারে ভাসছে। বিজয় আমাদেরই হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী ডা.জাহেদুল ইসলামসহ প্রচারণায় রয়েছেন আরও তিনজন।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯ জন।
নেত্রকোনা ৫ আসনে ২৫ প্রার্থী
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)
আসনটিতে বিএনপির মনোনীত কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, খেলাফত মজলিশ থেকে গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির পার্থী আনোয়ার হোসেন খান শান্ত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. মান্নান সোহাগ,জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. বেলাল হোসেন।
আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪১২ জন, হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৫জন।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা)
আসনে নির্বাচন করছেন বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি চিকিৎসক অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. শরিফ উদ্দিন তালুকদার, জাতীয় পার্টির এবিএম রফিকুল ইসলাম তালুকদার, এনসিপির মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুর রহিম।
আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন, হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১২ জন।
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়)
আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জাতীয় পার্টির মো: আবুল হোসেন তালুকদার, ইসলামী ফ্রন্টের বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাকির হোসেন, বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল, জামায়াতে প্রার্থী জেলা কমিটির শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য খায়রুল কবির নিয়োগী।
আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৪৮৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৭৮৭ জন, হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৯ জন।
নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী)
আসনে বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আল হেলাল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির চম্পা রানী সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা মুখলেছুর রহমান।
আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৩২১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৩ জন, হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৪ জন।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা)
আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, জামায়াতে ইসলামীর মাসুম মোস্তফা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. নূরুল ইসলাম।
আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ১১৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৭ জন, হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।
জামালপুর-৫ আসনে ৩৪ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের ৫ সংসদীয় আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচন। জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩৪ প্রার্থী।
ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে পাঁচটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুসংহত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে জামালপুর-১ ও ২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাকি তিনটি আসনে বিএনপির পরিচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ)
বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মিল্লাত এমপি থাকায় সীমান্তবর্তী অবহেলিত উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ উন্নয়নমূলক কাজ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক সাঈদী, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় পার্টির একেএম ফজলুল হক ও গণ অধিকার পরিষদের মো. রফিকুল ইসলাম।
এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর)
এ আসনে মূলত ভোটযুদ্ধ হবে বিএনপির সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক ড. অধ্যক্ষ ছামিউল হক ফারুকীর মধ্যে। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ ও স্বতন্ত্র অর্ণব ওয়ারেস খান।
২০০১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত রাশেদ মোশারফকে কুপোকাত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু। ৫ বছরের ব্যবধানে নদ-নদী ভাঙনকবলিত অবহেলিত ইসলামপুরের ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি। নদীভাঙন রোধসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে সাধারণ মানুষের খুব কাছে চলে যান।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. অধ্যক্ষ ছামিউল হক ফারুকীর সৎ ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ)
এ আসনে প্রার্থী ৯ জন। তারা হলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামায়াতের মজিবুর রহমান আজাদী, জাতীয় পার্টির মীর শামসুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের দৌলতুজ্জামান আনছারী, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান, শিবলুল বারী রাজু ও ফারজানা ফরিদ।
এ আসনে মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আজম টানা ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এ আসনে একাধিকবার নির্বাচন করে মির্জা আজমের কাছে হেরে যান। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটারদের সমর্থন যিনি পাবেন, জয়ের পাল্লা তারই ভারী হবে।
এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৩ জন।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)
এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনে এবার বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
এবার বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন, গণঅধিকার পরিষদের ইকবাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের কবির হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আকবর, কমিউনিস্ট পার্টির মাহবুব জামান জুয়েল। তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনেকটা নির্ভার বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪ হাজার ৯৯২ জন।
জামালপুর-৫ (সদর)
এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। এখানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ময়মনসিংহ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির একাধিকবারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামালপুর পৌরসভার দুবারের সফল পৌর মেয়র। একজন বিনয়ী মানুষ হিসেবে জেলা সদরের ভোটারদের কাছে তার সুনাম রয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি যেমন কর্মীবান্ধব, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।
আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সায়েম মোহাম্মদ সা-আদাত-উল-করীম, গণঅধিকার পরিষদের জাকির হোসেন, জেএসডির মো. আমির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. বাবর আলী খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. আক্কাছ আলী, স্বতন্ত্র মাসুদ ইব্রাহিম ও হোছনেয়ারা বেগম।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ)
আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে। বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান ছিদ্দিকী শুভ কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এতে ভোটাররা কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, যারা দলের বিপক্ষে তাদেরকে দলও ভালোবাসে না ভোটাররাও না। বিজয় ধানেই আসবে। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাওলানা মুজিবুর রহমান আজাদীও আলোচনায় রয়েছেন।
শেরপুর-৩
শেরপুর তিনটি আসন নিয়ে গঠিত। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশন।
শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরীন প্রিয়াংকা। মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শফিকুল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী হয়ে লড়ছেন হাফিজ রাশেদুল ইসলাম।
ভোটাররা জানান, গণতন্ত্র বিকাশে এবং দেশের উন্নয়নে ভালো নির্বাচনের বিকল্প নেই। তারা আশাবাদী দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে এবার সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের নয়, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে যাবেন।
শেরপুর-১ (শেরপুর সদর)
নির্বাচনে এই আসনে ছয়জন প্রার্থী লড়ছেন। প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। জামায়াত থেকে মনোনীত রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। এনসিপির মো. লিখন মিয়া। জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক মনি। স্বতন্ত্র প্রার্খী হিসেবে লড়ছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও মো. ইলিয়াস উদ্দিন।
তবে ভোটাররা জানান, ভোটের মাঠে এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও জামায়াত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলামর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭২ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন। হিজড়া ভোটার ৮ জন।
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী)
নির্বাচনে এই আসনে চারজন প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন বিএনপির মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, জামায়াতের মু. গোলাম কিবরিয়ার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস, এবি পার্টির মো. আব্দুল্লাহ।
এবার ভোটের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং জামায়াত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক মু. গোলাম কিবরিয়ার মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে জানান ভোটাররা।
এই আসন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৮ জন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ওই আসনের সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।
আইন অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক 'বৈধ প্রার্থী' হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে।
প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিলের ঘোষণা দেবেন এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন নতুন তপশিল ঘোষণা করবে।




