নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি হযরত আলীকে গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে আটক করেছে পুলিশ।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন করিম জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গৌরীপুর থানার পুলিশ নরসিংদী ডিবির সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত আলী গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রাম এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। তিনি নরসিংদীর মাধবদীতে ভ্যান চালাতেন। পরিচয়ের সূত্রে স্থানীয়দের সঙ্গে তার সংযোগ তৈরি হয় এবং সেই আশ্রয়স্থল থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, নিহত কিশোরী মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। পরিবার জানিয়েছে, ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিচার চেয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে গেলে বিচার না পাওয়ায় পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে বুধবার রাতে, যখন মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাওয়া বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন কিশোরীকে তুলে নেয়। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা সরিষা খেতে মেয়ের লাশ উদ্ধার করে। মাধবদী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহত কিশোরীর বাবা জানান, নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন আমার কাছ থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। যারা হত্যাকারী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কিশোরীর সঙ্গে নূরার সম্পর্ক ছিল। পরিবার এটি মেনে নেননি। বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে লাশ পাওয়া যায়।

