ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ ১৫ আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ০৪:১২ এএম
ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দোকানের সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার তারাটি ও পাড়াটঙ্গী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ, ডিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে মুক্তাগাছা পৌর শহরের আটানী বাজার এলাকার ছোট মসজিদ মোড়ে সোহেল ও খোকন মিয়ার দোকানের সামনে দুটি অটোরিকশা রাখা হয়। দোকানের সামনে থেকে অটোরিকশা সরাতে বললে চালকদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়।

এ ঘটনার জেরে বিকেলে পাড়াটঙ্গী গ্রামের কিছু লোক এসে খোকন ও সোহেলের দোকান ও গুদামে ভাঙচুর চালায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে উভয় পক্ষ সালিশে বসে। তবে সালিশ চলাকালে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

ইফতারের পর তারাটি ও পাড়াটঙ্গী গ্রামের লোকজন ফের সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কারও ইন্ধন থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাঁদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।